হযরত আবু বকর রা: এর জীবনী

নবী রাসূলগণের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিম্নে তাঁর জীবনী সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো-

১. নাম ও পরিচিতি :

তাঁর নাম আবদুল্লাহ। উপনাম আবু বকর, উপাধি عتبق ও صديق কুনিয়াত আবু কুহাফা। পিতার নাম ওসমান, মাতার নাম উম্মুল খায়ের সালমা বিনতে সখর। তিনি রাসূল (স)-এর বাল্যকাল হতে মৃত্যু পর্যন্ত তথা সারা জীবনের একমাত্র সাথি । তিনি নবী (স) থেকে ২ বছর ৪ মাসের ছোট ছিলেন।

২. জন্ম :

তিনি ৫৭১ বা ৭২ খ্রিস্টাব্দে আমুল ফীল-এর ২ বছর চার মাস পরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাসূল (স)-এর চাচাতো ভাই ছিলেন ।

৩. ইসলাম গ্রহণ :

নবুয়তের পূর্ব থেকেই রাসূল (স)-এর সাথে তাঁর ছিল ঘনিষ্ট সম্পর্ক। যার ফলে রাসূল (স) তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া মাত্রই তিনি তা গ্রহণ করেন এবং তিনিই ছিলেন পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ।

৪. রাসূলের সাহচর্য :

হযরত আবু বকর (রা) মহানবী (স)-এর সার্বক্ষণিক সহচর ছিলেন। ফলে হিজরতে তিনিই রাসূল (স)-এর একমাত্র সাথি ছিলেন ।

৫. যুদ্ধে অংশগ্রহণ :

হযরত আবু বকর (রা) বদরসহ সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাবুক অভিযানে স্বীয় সকল সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যুদ্ধ তহবিলে দান করেন।

৬. খেলাফত লাভ :

রাসূল (স)-এর ইন্তেকালের পর তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। একাধারে দু’বছর তিন মাস দশ দিন তিনি খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।

৭. হাদীস বর্ণনা :

বিশাল ইসলামী রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় সময়ের স্বল্পতার মধ্য দিয়ে ১৪২ খানা হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর থেকে অনেক প্রসিদ্ধ রাবী হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৮. ইন্তেকাল :

হযরত আবু বকর (রা) ১৩ হিজরীর ২১ জমাদিউসসানীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস তাঁকে গোসল দেন। তাঁকে হযরত আয়েশা (রা)-এর হুজরায় রাসূল (স)-এর পাশে দাফন করা হয়।

৯. আবু বকর (রা)-এর বৈশিষ্ট্য :

রাসূল (স)-এর ইন্তেকালের পরে হযরত আবু বকর (রা)-ই খলিফা হওয়ার জন্য সর্বাধিক যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিলেন এবং খলিফার পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন বহুবিধ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলি থেকে কতিপয় নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. তিনি ছিলেন রাসূল (স)-এর একমাত্র বিশ্বস্ত বন্ধু এবং তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তিনিই একমাত্র সাহাবী, যাঁর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারটি কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন- ثانِي اثْنَيْنِ إِذْهُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَن

২. হযরত আবু বকর (রা)-এর গোটা জীবন, বিত্ত-বৈভব সবকিছুই ইসলামের জন্য উৎসর্গিত ছিল। রাসূল (স) বলেছেন, আমি আবু বকরের ঋণ শোধ করতে পারব না।

৩. রাসূল (স)-এর অসুস্থতার সময় তিনি মসজিদে নববীতে নামাযের ইমামতি করেন। রাসূল (স) বলেছেন-

৪. রাসূল (স)-এর মদিনায় হিজরতের সময় তিনিই একমাত্র তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন।

৫. তিনিই সর্বপ্রথম বয়স্কদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেন।

৬. রাসূল (স) একমাত্র তাঁর সম্পর্কেই বলেছেন-

١. لَو اِتَّخَذْتُ مِنَ النَّاسِ خَلِيْلًا لَا تَخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا

٢. سَدُّوا عَلى كُلِّ خُوخَةٍ إِلَّا خُوحَ أَبِي بَكْرِ

৭. রাসূল (স)-এর মিরাজের অভিনব ঘটনাকে তিনিই সর্বপ্রথম সত্যায়ন করেছেন। এজন্য রাসূল (স) খুশি হয়ে তাঁকে উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

৮. তিনি আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম। হাদীসে বলা হয়েছে, তাঁকে বেহেশতের সকল দরজা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হবে। যেখান দিয়ে পছন্দ তিনি প্রবেশ করবেন।

মোটকথা, তিনি ছিলেন , أَفْضَلُ الْبَشَرِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاء তথা নবী রাসূলগণের পরে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।