দুশ্চিন্তা, ঋণ ও অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকার আমল

মানুষের জীবনের অন্যতম বড় চাওয়া নিরাপত্তা। মানুষ নিরাপদে থাকতে কত কিছুইনা করে। সমাজে অনিষ্ট, দুশ্চিন্তা ও ঋণের কারণে কষ্টে থাকা মানুষ অনেক। কীভাবে মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে এর যেমন দুনিয়াবী প্রচেষ্টা আছে, তেমনি এর জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) বিভিন্ন আমল বাতলে দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য এখানে কিছু দোয়া বা আমল উল্ল্যেখ করা হলো।

সকাল-সন্ধ্যার আমল

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা এক বর্ষণমুখর অন্ধকার রাতে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম, যেন তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়েন। তার সঙ্গে যখন সাক্ষাৎ হলো- তিনি বললেন, কুল অর্থাৎ, বলো।

আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন, কুল অর্থাৎ, বলো। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন, কুল অর্থাৎ বলো। আমি আরজ করলাম, আল্লাহর রাসূল! কী বলব? তিনি বললেন, কুলহুয়াল্লাহু আহাদ ও মুয়াওয়াজাতাইন অর্থাৎ সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস।

সন্ধ্যায় ও সকালে তিনবার এ সূরাগুলো পড়বে, সব কিছু থেকে তোমার হেফাজতের জন্য যথেষ্ট হবে।’ -সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮২

বিখ্যাত মুহাদ্দিস হজরত মোল্লা আলি কারী (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, আল্লামা ত্বীবি (রহ.) বলেন, ‘সব বিষয়ে যথেষ্ঠ হবে’- কথাটির দুটি অর্থ হতে পারে; ১. সকল অনিষ্টকারীর সব রকমের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য এটিই যথেষ্ট রক্ষাকবচ। ২. যেকোনও অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে হেফাজতের জন্য এ আমলটিই যথেষ্ট, এটি পড়লে আর কোনও অজিফা, দোয়া ও আমল করার দরকার থাকে না। (মেরকাত-চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৩৭০)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন দোয়ার মধ্যে এই দোয়া অন্যতম। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৪৫)

আরবি :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাওয়ালি নি‘মাতিকা, ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা, ওয়া ফুজাআতি নিকমাতিকা, ওয়া জামিয়ি সাখাতিকা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নিয়ামতে   বিলুপ্তি, আপনার অনুকম্পার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সকল ক্রোধ থেকে।

নিরাপদে থাকার আমল

হযরত উসমান (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়া তিনবার পড়বে তাকে ওই দিন ও রাতে কোনো বিপদ আক্রান্ত করবে না।’

আরবি:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়াছমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থ : সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি। যে নামের সঙ্গে কোনো কিছুই অনিষ্ট করতে পারে না। না ভূমণ্ডলে এবং না নভোমণ্ডলে। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্ব জান্তা।

উসমান (রা.) হতে হাদিসটির বর্ণনাকারী ছিলেন আবান (রহ.)। তিনি একদা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তার আক্রান্ত হওয়া দেখে যে লোক হাদিসটি তার মাধ্যমে শুনেছিল, অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আবান বলেন, আমি তাকে বললাম, তাকিয়ে দেখার কি আছে! আমি উসমান (রা.)-এর সূত্রে মিথ্যা বর্ণনা করিনি। উসমান (রা.) নবী করীম (সা.) হতে মিথ্যা বলেননি। আজ আমি কোনো কারণে রেগে যাওয়ায় তা পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮৮)

বিশ্ব বিখ্যাত তাফসিরবিদ কুরতুবি বলেন, হাদিসটি সহিহ এর এর আমলও যথার্থ। আমি পরীক্ষা করে তা সত্য পেয়েছি। হাদিসটি শোনার পর থেকে আমি এই আমল ছাড়িনি। তাই আমাকে কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারেনি। একবার মদিনায় আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছিল। এতে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। পরে আমার মনে পড়েছিল, ওই দিন আমলটি করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। (আল ফুতুহাতুর রাব্বানিয়া : ৩/১০০)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন।

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।