আরাফার রোজা কবে : একটি দালীলিক পর্যালোচনাঃ

 

অধুনা সময়ে মত-দ্বিমত, চিন্তা-প্রতিচিন্তা ও মতদ্বৈতপূর্ণ একটি মাসআলা হচ্ছে, আরাফার রোজা কবে : হাজীরা যেদিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন সেদিন, না-কি নিজ অঞ্চল ও ভূখণ্ড অনুযায়ী যুলহাজ মাসের ৯ তারিখ? এ মাসআলা নিয়ে কয়েক দশক থেকে দ্বৈরথ সৃষ্টি হয়; তার পূর্বে এ নিয়ে কোনো দ্বৈরথ ছিলো না। সবাই নিজ নিজ অঞ্চল ও ভূখণ্ডের চাঁদ অনুযায়ী ৯ যুলহাজ রোজা রাখতো। আমরা চলমান প্রবন্ধে কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফদের বুঝের আলোকে এ সংক্রান্ত সঠিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করবো, ইন-শা-আল্লাহ।  

আমরা রোজার সময় ও দিনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখতে পাই, কিছু রোজার সম্পর্ক চাঁদের সাথে। চাঁদের উদয়-অন্ত অনুযায়ী রোজা রাখতে হয় ও রোজায় বিরতি দিতে হয়। যেমন, রামাজানের রোজা, শাওয়ালের রোজা, মুহাররমের রোজা ইত্যাদি। আবার কিছু রোজার সম্পর্ক চাঁদের সাথে নয়; বরং নির্দিষ্ট দিনের সাথে। যেমন, সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা। 

এখন আমাদের দেখা উচিত, আরাফার রোজা কীসের সাথে সম্পৃক্ত : চাঁদের সাথে না-কি নির্দিষ্ট দিনের সাথে? চাঁদের সাথে সম্পৃক্ত হলে নিজ নিজ অঞ্চল ও ভূখণ্ডের চাঁদ অনুযায়ী রোজা পালন করতে হবে; কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল ও ভূখণ্ডের চাঁদ অনুযায়ী নয়। আর যদি নির্দিষ্ট দিনের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে পৃথিবীর লয় পর্যন্ত সপ্তাহের যেকোনো নির্দিষ্ট একদিন তাবৎ পৃথিবীর মানুষকে রোজা পালন করতে হবে। যেমন, হয় পৃথিবীর লয় পর্যন্ত শনিবার রোজা রাখতে হবে বা সোমবার রোজা রাখতে হবে বা মঙ্গলবার রোজা রাখতে হবে…। আর সেই শনিবার বা সোমবার বা মঙ্গলবার চন্দ্রমাসের যেকোনো তারিখে হতে পারে। আর এ মত মহাপ্রলয় পর্যন্ত কেউ দেবে বলে কল্পনার আরশিতে আঁকা যায় না।

কেউ হয়তো বলতে পারে, আমাদের উপর্যুক্ত আলোচনা যুক্তি নির্ভর। আরাফার রোজা চাঁদের সাথে সম্পৃক্ত, হাদীস থেকে এর কি কোনো প্রমাণ আছে? হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, তিনি আরাফার রোজাকে যুলহাজের চাঁদের সাথে সম্পৃক্ত মনে করতেন; নির্দিষ্ট দিন বা নির্দিষ্ট স্থানের সাথে নয়। কোনো এক উম্মুল মুমিনীন বলেন, 

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَصُومُ تِسْعَ ذِى الْحِجَّةِ

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুলহাজের নয়দিন রোজা পালন করতেন। (সুনানু আবী দাউদ, ২৪৩৯; ইমাম আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) এ হাদীস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়, আরাফার রোজা চাঁদের সাথে সম্পৃক্ত; নির্দিষ্ট দিন বা স্থানের সাথে সম্পৃক্ত নয়। কারণ, এ হাদীসে রোজাকে মাসের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে; নির্দিষ্ট কারণ বা স্থানের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়নি। 

এছাড়া ইসলামে হজের সূচনা ও রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরাফার রোজার রাখার ইতিহাসের দিকে তাকালেও বোঝা যায়, তিনি আরাফার রোজাকে চাঁদের সাথে সম্পৃক্ত মনে করতেন। গ্রহণযোগ্য ও প্রণিধানযোগ্য মত অনুযায়ী নবম হিজরীতে হজ ফরজ হয়। তার মানে নবম হিজরীর পূর্বে মুসলিমদের আরাফার ময়দানে অবস্থান করার কোনো প্রশ্নই আসে না। অথচ আমরা দেখতে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবম হিজরীর পূর্ব থেকেই আরাফার রোজা রাখতেন। তিনি জীবনে একবার হজ পালন করেন। সেই হজে আরাফার দিনে তিনি রোজা রেখেছেন কি-না, তা নিয়ে সাহাবীদের মাঝে সন্দেহ হয়। উম্মুল ফযল রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন,

شَكَّ النَّاسُ يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صَوْمِ النَّبِيِّ فَبَعَثْتُ إِلَى النَّبِيِّ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ

আরাফার দিনে নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রোজা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। আমি নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পানীয় পাঠালে তিনি তা পান করেন। (সহীহুল বুখারী, ১৬৫৮) 

নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইতোপূর্বে সাহাবীগণ আরাফার রোজা রাখতে দেখেছেন বিধায় তাদের মাঝে সন্দেহের উদয় হয় যে, অন্যান্য বছরের মতো আজকে তিনি রোজা রেখেছেন কি-না। ইতোপূর্বে তারা তাঁকে রোজা রাখতে না দেখলে তাদের মননে কোনোপ্রকার সন্দেহ সৃষ্টি হতো না; অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই তারা সেইদিনকেও আমলে নিতেন। যেহেতু বোঝা যায় তিনি মুসলিমদের আরাফার দিনে অবস্থান করার পূর্ব থেকেই রোজা রাখতেন, সেহেতু প্রমাণ হয় তিনি চাঁদের হিসেবে রোজা রাখতেন; আরাফায় হাজীদের অবস্থানের হিসেবে নয়। 

আরাফার রোজাকে হাজীদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের সাথে নির্দিষ্ট করলে বেশকিছু সমস্যা সামনে আসবে। যেমন, 

ক. আরাফায় অবস্থানের সাথে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলে সবার জন্য সৌদির চাঁদ অনুযায়ী রোজা পালন করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়বে। আর আমরা দেখতে পাই, কোনো কোনো দেশে সৌদির একদিন আগে চাঁদ উদয় হয়। তার মানে সেসব দেশে যেদিন ঈদ, সেদিন সৌদি আরবের চাঁদ অনুযায়ী আরাফার দিন। আর সর্বসম্মতিক্রমে ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। এভাবে সেসব দেশের অধিবাসীরা আরাফার রোজা পালন থেকে বঞ্চিত হবে। 

খ. পৃথিবী আবার যদি কখনো আধুনিক টেকনোলজি ব্যবস্থা হারিয়ে ফেলে, তখন সৌদিতে কবে আরাফায় হাজীরা অবস্থান করছে, তা অবগত সম্ভব হবে না। ফলে আরাফার রোজা রাখাও সম্ভব হবে না। এমনকি অধুনাকালেও অনেক দেশ ও অঞ্চল আধুনিক টেকনোলজির বাইরে চলে যায়। নানাবিধ কারণে বিভিন্ন এলাকা ও অঞ্চলের ওপর আধুনিক টেকনোলজি ব্যবস্থা অবরোধ করা হয়। তখন তারা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং কীভাবে আরাফার দিন নির্ধারণ করবে? 

গ. যুলহাজ মাসে যে তাকবীর দেওয়া হয় তা দুই প্রকার : মুতলাক তাকবীর ও মুকাইয়াদ তাকবীর। মুকাইয়াদ তাকবীর কখন থেকে শুরু হয় সে ব্যাপারে সাহাবীদের থেকে পাওয়া যায়, তারা আরাফার দিন থেকে আইয়ামুত তাশরীকের শেষদিন পর্যন্ত মোট ৫ দিন তাকবীর দিতেন। এখন আমরা যদি আরাফার দিন বলতে আরাফায় অবস্থানের দিন ধরি, তবে যারা সৌদির পর চাঁদ দেখে তাদেরকে ৬ দিন তাকবীর দিতে হবে আর যারা সৌদির আগে চাঁদ দেখে তাদেরকে ৪ দিন তাকবীর দিতে হবে। অথচ এটি হবে সাহাবীদের ইজমা পরিপন্থি; যার আলোচনা সামনে আসছে।  

ঘ. ইতিহাস বলে, পূর্বে অনেকবার হজ কার্যক্রম বন্ধ ছিলো এবং হাদীস থেকে পাওয়া যায় সামনেও হজ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এখন আরাফার দিন বলতে যদি হাজীদের আরাফার ময়দানে অবস্থান করা বোঝায়, তবে যখন হজ কার্যক্রম বন্ধ ছিলো তখন আরাফার রোজার বিধান থাকার কথা ছিলো না। আবার সামনে যখন বন্ধ থাকবে তখন আরাফার রোজা পালন করার বিধান বাতিল হয়ে যাবে। আর এটি যে একটি বাতিল মত তা বলার অবকাশ রাখে না।   

সংশয় নিরসন : 

যাদের মতে আরাফার রোজা হচ্ছে, হাজীরা যেদিন আরাফায় অবস্থান করে—তারা তাদের পক্ষে এ হাদীসটিকে দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 

صِيَامُ عَرَفَةَ إِنِّى أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ

আরাফার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদি তিনি এর মাধ্যমে একবছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ মোচন করে দেবেন। 

তারা বলেন, এখানে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার রোজাকে আরাফার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। অতএব, আরাফার রোজা সেদিন রাখতে হবে, যেদিন হাজীরা আরাফায় অবস্থান করে। 

পর্যালোচনা : 

‘ইউমু আরাফা বা আরাফার দিন’ মানে হাজীদের আরাফায় অবস্থান করা অর্থ নয়। বরং ইউমু আরাফা একটি পরিভাষা এবং যুলহাজ মাসের ৯ তারিখের একটি নাম। প্রতিটি চন্দ্রমাস ও চন্দ্রদিন-সমূহের নামকরণ করা হয়েছে বিশেষ ঘটনা ও কারণের দিকে লক্ষ্য রেখে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ঘটনা ও কারণ বিদ্যমান না থাকলেও সেই নাম পরিবর্তন হবে না; বরং সেই নাম অক্ষত থাকবে। যেমন রামাজান মাসের নামকরণ করা হয়েছে সেই সময়টা উষ্ণ ও গরম থাকার কারণে। এখন কেউ বলতে পারবে না, ‘উষ্ণ ও গরমকাল ছাড়া রোজা পালন করা যাবে না। কেবল উষ্ণ ও গরমকালেই রোজা রাখতে হবে। কারণ, রামাজান মানে গরম ও উষ্ণ সময়।’ অনুরূপভাবে আমাদের একটি অতি পরিচিত নাম ‘মহাখালী’। মহাখালী এলাকা একদম মুক্ত ও জনবসতিহীন ছিলো বলে নাম রাখা হয়েছিলো মহাখালী। কিন্তু বর্তমানে ‘মহাখালী’ পরিণত হয়েছে মহাঠাসাঠাসি ও মহাযানজটে। তাই বলে কেউ দাবি করতে পারবে না, এখন আর মহাখালী নাম অক্ষত রাখা যাবে না। 

তো জিলহাজ মাসের ৯ তারিখ যেহেতু হাজীরা আরাফায় অবস্থান করে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ৯ তারিখের নাম রাখা হয়েছে ‘ইউমু আরাফা বা আরাফার দিন’। যদি কখনো হজ বন্ধও থাকে, আরাফার ময়দানে হাজীরা অবস্থান নাও করে, তবুও যুলহাজ মাসের ৯ তারিখ ইউমু আরাফা হিসেবে নাম অক্ষত থাকবে। আরাফায় হাজীরা অবস্থান করবে না বলে তখন আর ৯ তারিখকে ইউমু আরাফা বলা যাবে না, এমনটা হতে পারে না। তাই আমরা বলতে পারি ইউমু আরাফা বা আরাফার দিন হচ্ছে জিলহাজ মাসের ৯ তারিখের একটি নাম। প্রত্যেক অঞ্চল ও ভূখণ্ডের চাঁদ অনুযায়ী ৯ যুলহাজ হচ্ছে তাদের ‘ইউমু আরাফা বা আরাফার দিন’। এটাই ছিলো সাহাবী, তাবিয়ী, তাবা-তাবিয়ী-সহ পরবর্তী আলিম ও ইমামগণের মত। যেমন, উমার, আলী, ইবন আব্বাস, ইবন মাসউদ প্রমুখ সাহাবীদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, 

أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ يَوْمَ عَرَفَةَ إِلَى صَلاَةِ الظُّهْرِ مِنْ آخِرِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ.

আরাফার দিন ফজরের পর থেকে আইয়ামুত তাশরীকের শেষ দিন পর্যন্ত তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ৫৬৭৭-৫৬৮১) 

এ হাদীস থেকে প্রমাণ হয় সাহাবীগণ ৫ দিন তাকবীর দিতেন। এটা ছিলো সমস্ত সাহাবীর আমল এবং তাদের ইজমা, যেমনটি ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল, ইবনু কুদামাহ, ইবন রজব, ইবন তাইমিয়্যাহ প্রমুখগণ এ ব্যাপারে ইজমার দাবী করেছেন। আর এখানে ইউমু আরাফা বা আরাফার দিন দ্বারা উদ্দেশ্য স্ব-স্ব অঞ্চল ও ভূখণ্ডের যুলহাজ মাসের ৯ তারিখ; আরাফায় হাজীদের অবস্থানের নির্দিষ্ট দিন নয়। আমাদের এ দাবীর প্রমাণ হচ্ছে, সবার মতে এ তাকবীর হবে মোট ৫ দিন। অথচ আমরা যদি আরাফার দিন বলতে আরাফায় অবস্থানের দিন ধরি তবে যারা সৌদির পর চাঁদ দেখে তাদেরকে ৬ দিন তাকবীর দিতে হবে আর যারা সৌদির আগে চাঁদ দেখে তাদেরকে ৪ দিন তাকবীর দিতে হবে।

এছাড়া ইবনু কুদামাহ, যাকারিয়া আনসারী, শামসুদ্দীন আল-খতীব, শামসুদ্দীন আর-রামলী, যারকাশী, আইনী-সহ অসংখ্য ইমাম বলেছেন যুলহাজ মাসের ৯ তারিখের অপর নাম ইউমুল আরাফা বা আরাফা দিন। এমনকি আইনী ও কিরমানী বলেছেন, ‘আরাফা’ কোনো স্থানের নাম নয়; বরং সময়ের নাম। অতএব, উল্লিখিত হাদীসে আরাফার দিন দ্বারা আরাফায় হাজীদের অবস্থানের দিন উদ্দেশ্য নয়; বরং যুলহাজ মাসের স্ব-স্ব অঞ্চলের ৯ তারিখ উদ্দেশ্য। 

এছাড়া ইউমু আরাফার মতো আরও তিনটি পরিভাষা হলো, ইউমুত তারবিয়্যাহ, ইউমুল ঈদ ও আইয়ামুত তাশরীক। ইউমুত তারবিয়্যাহ হচ্ছে, ইউমুল আরাফার আগের দিন তথা ৮ তারিখ। ইউমুল ঈদ হচ্ছে ইউমুল আরাফার পরের দিন তথা ১০ তারিখ আর আইয়ামুত তাশরীক হচ্ছে ১১, ১২, ১৩ তারিখ। যারা বলেন, ইউমুল আরাফাহ মানে হাজীরা যেদিন আরাফার মাঠে অবস্থান করে তারা এ চারটি পরিভাষায় গোলোযোগের শিকার হন। তারা ইউমু আরাফা গণ্য করেন সৌদির চাঁদ অনুযায়ী আর বাকী তিনটি পরিভাষা গণ্য করেন স্ব-স্ব অঞ্চলের চাঁদ অনুযায়ী। ফলে আমাদের অঞ্চলের চাঁদ অনুযায়ী তারা ইউমুত তারবিয়্যাহ এবং ইউমু আরাফাহ ৮ তারিখে একদিনে গণনা করেন। তারপর ইউমু আরাফার পরের দিনের ইউমুল ঈদকে ইউমুল আরাফার দুদিন পর গণনা করেন। এরপর তারপর ইউমু আরাফার দুদিন পরের আইয়ামুত তাশরীককে ইউমুল আরাফার তিনদিন পর গণনা করে। এমন গণনা চরম হাস্যকর এবং এক প্রকার প্রোগলভোতা। 

তাছাড়া আমরা যদি ধরেও নিই আরাফার দিন দ্বারা আরাফার ময়দানে হাজীদের অবস্থানের দিন, তারপরও সকল অঞ্চল ও ভূখণ্ডের লোকদের ওপর আরাফার ময়দানে হাজীদের অবস্থানের দিন রোজার আবশ্যকতা প্রমাণ হয় না। কারণ, শরীআতের কোনো বিধান কোনো ঘটনা বা স্থান বা কাল থেকে উৎসারিত হলেও সেই ঘটনা বা স্থান বা কালের সাথে উক্ত বিধান খাস হয়ে যায় না। সেই সময়টা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের চাঁদের সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। বরং স্ব-স্ব অঞ্চল বা ভূখণ্ডের সাথে উক্ত বিধান পালন করতে হয়। যেমন, আশুরার রোজার কারণ হচ্ছে, মুহাররমের ১০ তারিখ মূসা আলাইহিস ওয়া সালাম ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত পান। তার কৃতজ্ঞতা সরূপ আমাদেরকে মুহাররামের ১০ তারিখ রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে। এটা বলার দরকার নেই যে, যে এলাকার মুহাররমের ১০ তারিখ তিনি নাজাত পান, পৃথিবীর সকল ভূখণ্ডে সেইদিন ১০ তারিখ নয়। যেসব ভূখণ্ড সেই ভূখণ্ডের আগে চাঁদ দেখে তাদের সেদিন মুহাররামের ১১ তারিখ আর যারা পরে দেখে তাদের সেদিন মুহাররমের ৯ তারিখ। তাহলে যারা আরাফার রোজাকে সৌদির চাঁদের সাথে নির্দিষ্ট করে দিচ্ছেন তাদের উচিত মুহাররামের রোজাকে সেই ভূখণ্ডের চাঁদের সাথে নির্দিষ্ট করে দেওয়া যে ভূখণ্ডে মূসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের কবল থেকে নাজাত পান। 

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।